চারঘাটে তৈরী হচ্ছে ভেজাল খেজুরের গুড়

Written By HBNtv.com on রবিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০১২ | ৩:১৬ AM

বাঘা নিউজ ডটকম, মিজানুর রহমান বিপ্লব, চারঘাট (রাজশাহী) প্রতিনিধি :: রাজশাহীর চারঘাটে ভেজাল আখের গুড় তৈরীর পাশাপাশি বর্তমানে ভেজাল খেজুরের গুড় তৈরী হচ্ছে দেদারছে। গত ১০ বছর ধরে চারঘাট উপজেলায় বিভিন্ন গ্রামে আখের রসের সঙ্গে চিটাগুড়, আটা ও রং মিশিয়ে ভেজাল আখের গুড় তৈরী হয়ে আসছে। বর্তমানে আখের গুড়ের পাশাপামি কেজুর রসের সহিত বিভিন্ন কেমিক্যাল মিশিয়ে ভেজাল খেজুরের গুড় দেদারছে তৈরী হচ্ছে। সামন্র খেজুরের রস বা খেজুরের গুড়ের সঙ্গে চিনি, আট, আলু ও এক ধরণের রং মিশিযে রাজশাহীর বিভিন্ন গ্রামে তৈরী হচ্ছে খেজুরের গুড়। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারের অধিকাংশ গুড় এভাইে তৈরী হচ্ছে। স্থানীয় লোকজন ব্রঙ্গ করে এর নাম দিয়েছে হাইব্রিড খেজুরের গুড়।
রাজশাহী জেলার প্রায় উপজেলার এক শ্রেণীর মানুষ এভাবে গুড় তৈরীকে ব্যবসা হিসাবে নিয়েছেন। খুচরা বাজারে চিনি ৫৪-৫৫ টাকা কেজি দারে পাওযা যাচ্ছে। চিনি মেশানো গুড় ৬০-৬২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়।
চারঘাট উপজেলার মেরামতপুর দিড়িপাড়া গ্রামে গিয়ে কথা হয় জার্মানের সঙ্গে। কড়াইয়ে চিনি ঢালছেন তিনি। কড়াইয়ের মধ্যে অল্প রস, বেশিরভাগই চিনি। তিনি জানান, “আসল খেজুরের গুড়ের চেয়ে দ-িএকটা কমে বেচি হাইব্রিড গুড়। কেজি প্রতি তিন-চার টাকা লাভ থাকে।
উপজেলার মেরামতপুর, মিয়াপুর, পরানপুর, পিরোজপুর, রাওথাসহ অধিকাংশ গ্রামগুলোতে গিয়ে কেজুরের গুড় তৈরীর ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। এই এক মণ হাইব্রিড খেজুরের গুড় তৈরীতে ব্যবহৃত হচ্ছে, ১০কেজি খেজুরের গুড়, ১০ কেজি চিনি, আট কেজি আখের চিটাগুড়, পাঁচ কেজি আলু ও তিন কেজি আটা সবমিলে ৪০ কেজি। উপজেলার বেলতলা গ্রামের আইনাল এর বাড়ি গিয়ে দেখা গেছে দুটি চুলায় বড় কড়াইয়ে গুড় তৈরীর কাজ চলছে। জনৈক গাছি (যিনি খেজুরের গাছ কেটে রস বের করেন) জানান, চিনি দিলে গুড়ের রং সাদা হয়ে যায়। এ জন্য তারা হাজার পাওয়ারের রং ব্যবহার কারেন। এই রং সামান্য দিলেই গুড়ের আসল রং চলে আসে। স্থানীয় বাজারগুলোতে এই রং কিনতে পাওয়া যায়।
সরদহ একাডেমীর হাসপাতালের ডাক্তার মোঃ সিরাজুল ইসলাম বলেন, চিনি মেশানোর কারণে খেজুরের গুড় তার গুনগত মান হারাচ্ছে। তারা যে রং মেশাচ্ছে, তা মানুষের জন্য বিষ। এগুলো খাবার রং নয়। এ করণে মানবদেহের ক্ষতি হতে পারে। তবে রিভারের সমস্যা হতে পারে। সেই লিভার থেকে বিভিন্ন রোগ দেখা দিতে পারে।
এছাড়া সরজমিনে দেখা গিয়েছে দেড়িপাড়া আখ মাড়াই করা প্রতিটি বাড়ীতে নাটোর লালপুর সুগার মিলের গো-খাদ্য চিটাগুড় ব্যারেলে স্টক করা রযেছে। এগুলো একমাস পর আখের গুড়ের সহিত মিশিয়ে আখের ভেজাল গুড় তৈরী হবে বরে এলাকার কিছু  জনৈক ব্যক্তি জানান।

0 মন্তব্য(গুলি):

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Ruby